শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১১ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থানের মেয়াদ কিভাবে জানবেন, জানাল মার্কিন দূতাবাস অস্ট্রেলিয়াতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো অনেক বড় ব্যাপার: টাইগার বোলিং কোচ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়া নিয়ে যা বললেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী লুট-অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ ইউনিট গঠন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হালান্ড-চেরকির জোড়া গোলে ম্যানসিটির দাপুটে জয় রোনালদোর গোলে আল নাসরের জয়, গড়লেন রেকর্ড টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজের সেমিতে বাংলাদেশ এইচপি দল এআই ব্যবহার করে মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না: প্রধান বিচারপতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আইরিন খান

৩ লাখ পাউন্ড ভিত্তিমূল্যে নিলামে উঠছে মেসির চুক্তির সেই ন্যাপকিন পেপার!

আজ থেকে প্রায় ২৪ বছর আগের গল্প। ট্রায়ালে ১৩ বছর বয়সী লিওনেল মেসির খেলা দেখে মুগ্ধ হয়ে ‘ন্যাপকিন পেপারে’ই তাকে চুক্তিবদ্ধ করেছিলেন স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার কর্মকর্তারা। এই ন্যাপকিন পেপারটি নিলামে উঠছে। ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারের প্রথম চুক্তির দলিল বলেই ন্যাপকিন পেপারটি নিলামে আকর্ষণ ছড়াবে।

ন্যাপকিন পেপারে সেই চুক্তির পর বার্সায় ইতিহাস গড়েছেন মেসি। ১৬ বছর বয়সে বার্সার সিনিয়র দলে অভিষেকের পর ৭৭৮ ম্যাচ খেলে ৬৭২ গোল করেছেন। ৩৬ বছর বয়সী মেসি ১০টি স্প্যানিশ লিগ, চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অসংখ্য শিরোপা জয় করেন। ব্যক্তিগত পর্যায়েও তিনি ব্যালন ডি’অর, ফিফা দ্য বেস্টসহ অসংখ্য পুরস্কার জয় করেন। ২০২১ সালে তিনি ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে ও ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মিয়ামিতে নাম লেখান।

যে ন্যাপকিন পেপারে লেখা চুক্তি মেসিকে বার্সায় পৌঁছে দেয়, আর তিনি এরপর একের পর এক রেকর্ড আর ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন, নিলামে সেই ন্যাপকিন পেপারের ভিত্তিমূল্য ৩ লাখ পাউন্ড, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৪ কোটি টাকাও বেশি। আগামী মাসে ব্রিটিশ অকশন হাউস বোনহামস এই নিলামের আয়োজন করছে।

নিলাম নিয়ে বোনহামসের কর্মকর্তা ইয়ান এহলিং বলেছেন, ‘আমি নিলাম পরিচালনা করেছি, এমন জিনিসগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে রোমাঞ্চকর। হ্যাঁ, এটি ন্যাপকিন পেপার। কিন্তু এটা সেই ন্যাপকিন পেপার, যা মাধ্যমে লিওনেল মেসির ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল। এটা বার্সার ভবিষ্যৎ আর মেসির জীবন পরিবর্তন করে দিয়েছিল। ফুটবলে বিশ্বের কোটি সমর্থককে চমৎকার মুহূর্ত উপহার দিয়েছে।’

আর্জেন্টাইন এজেন্ট হোরাসিও গ্যাগিওলির মাধ্যমে বোনহামস এই নিলামের আয়োজন করতে যাচ্ছে। গ্যাগিওলিও বার্সার কাছে প্রথম মেসির নাম সুপারিশ করেছিলেন।

বার্সেলোনার অনূর্ধ্ব-১৪ দলে খেলার আশায় ট্রায়াল দিতে মেসিকে নিয়ে যায় তার পরিবার। মেসির বয়স, কম উচ্চতা আর অ-ইউরোপয়ীয় বলে বার্সা কর্মকর্তারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছিলেন। ট্রায়াল শেষে তাঁর পরিবার মেসিকে নিয়ে আর্জেন্টিনার রোজারিওতে ফিরে যায়। সেই সময়ে একদিন হঠাৎ করেই বার্সার ক্রীড়া পরিচালক কার্লোস রেক্সাস মেসির পরিবারকে দুপুরের খাবারের নিমন্ত্রণ করেন। সেখানেই হয় এই ঐতিহাসিক চুক্তি।

১৬.৫ সেন্টিমিটার বর্গাকৃতির ন্যাপকিন পেপারে সেদিন নীল কালিতে লেখা হয়েছিল চুক্তিটি।

কী লেখা ছিল সেই ন্যাপকিন পেপারে? চুক্তিতে লেখা ছিল, ‘বার্সেলোনায় ১৪ ডিসেম্বর, ২০০০ সালে জোসেফ মিনগেলা, হোরাসিও আর বার্সার ক্রীড়া পরিচালক কার্লোস রেক্সাসের উপস্থিতিতে পূর্ণ দায়িত্বের সঙ্গে নির্দিষ্ট অঙ্কে লিওনেল মেসিকে সই করানোর ব্যাপারে একমত হওয়া গেল।’

মন্তজুইচের রিয়াল সোসিয়েতাত দে টেনিস পম্পেইয়া হোটেল হওয়া সেই চুক্তিটি মূলত মেসিকে বার্সায় নিতে কার্লোস রেক্সাসের হস্তলিখিত অঙ্গীকারনামা।

জোসেফ মিনগেলা হলেন বার্সার দলবদল বিষয়ক পরামর্শক। ২০০০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ ডিসেম্বরের চুক্তি সই পর্যন্ত বার্সেলোনায় মেসি ও তার পরিবারের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে মেসির আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মিনগেলা।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com